নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি – টানা কমলার মাস! মানে বাজার জুড়ে মিলবে দুর্দান্ত স্বাদের লেবু – দার্জিলিং, সিকিম, ভুটানের মতো জায়গা থেকে তো ফল আসবেই, সেই সঙ্গে আছে নাগপুরের লেবু। কমলার রস, শাঁস, খোসা সব কিছুরই নানা উপকারিতা আছে। সেগুলি কী, তা জেনে নিন এইবেলা!
কমলালেবুতে ফ্যাট থাকে না, ক্যালোরির পরিমাণও অত্যন্ত কম। তাই যাঁরা ওজন কমানোর স্বপ্ন দেখছেন, তাঁরা স্বচ্ছন্দে কমলা খেতে পারেন। উলটে মিলবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস। সেই সঙ্গে আছে ভিটামিন সি, তা আপনার ত্বক ভালো রাখতে দারুণ কার্যকর। সূর্যের আলো আর দূষণের কল্যাণে আমাদের ত্বকের যে সব সমস্যা দেখা দেয়, তা থেকে দূরে রাখতে পারে কমলালেবুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস। সেই সঙ্গে শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে আপনার প্রতিরোধক্ষমতাও।
কমলালেবুর খোসায় যে প্রাকৃতিক তেল থাকে, তার তীব্র গন্ধে দূরে সরে যায় ছোটখাটো পোকামাকড়, পিঁপড়ে। সেই সঙ্গে তা সুগন্ধিও বটে। ঘর মোছার জলে কয়েক ফোঁটা কমলালেবু এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন, পোকামাকড়ের উপদ্রব ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন। বিশেষ করে রান্নাঘরের টেবিল টপ বা গ্যাসের স্টোভ মোছার সময় এই তেল ব্যবহার করলে একইসঙ্গে দুটো সুবিধেই মিলবে।
জানেন তো, কমলালেবুর রস সমস্ত তেলচিটেভাব দূর করতে দারুণ কার্যকর? অনেক সময় একসঙ্গে বেশি লেবু কিনে ফেললে অর্ধেক পচে নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে লেবু একেবারে ফেলে না দিয়ে নষ্ট হওয়া দিকটা কেটে ফেলে দিন, ভালো অংশটার উপর বেশ খানিকটা করকরে নুন ছড়িয়ে নিতে হবে। আর পর সেই লেবু দিয়ে ঘষে সাফ করুন গ্যাস স্টোভ, রান্নাঘরের দেওয়াল, আভেনের ভিতর দিক বা চিমনি। তার পর একটা ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে ভালো করে মুছে ফেললেই হবে।
কমলালেবুর খোসা খটখটে করে শুকিয়ে নিন। তার পর আতপ চাল, মুসুর ডাল আর অল্প আখরোটের সঙ্গে গ্রাইন্ডারে দিয়ে তা গুঁড়ো করে নিতে হবে। শুকনো একটি কৌটোতে ভরে রেখে দিন এবং সারা বছর ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে। ব্যবহার করার আগে সামান্য দুধের সর আর মধু মিশিয়ে নিতে হবে… বছরের কোনও সময়েই আপনার ত্বক ক্লান্ত বা মলিন হয়ে পড়বে না – সে বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন!
